ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৩:১৯:০৯ AM

নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
04-08-2026 04:17:54 PM
নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন দলিল লেখক, সেবা গ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একাধিক সূত্রের ভাষ্য, দলিল নিবন্ধনের ধরন ও মূল্য অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এর ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও দলিল লেখকদের অনেক সময় অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় সরকারি ফি পরিশোধের পরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হলে দলিল নিবন্ধনে বিলম্ব, অযথা আপত্তি কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, মো. নাজমুল হাসান পূর্বে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কয়েকটি সূত্রের দাবি, অতীতেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পড়েছিল। তবে সেসব অভিযোগের তদন্ত বা নিষ্পত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১৪ বছরের চাকরি জীবনে তার বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজ নামে ছাড়াও স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি রয়েছে। এছাড়া একটি মাছের ঘের, একাধিক আবাসিক ফ্ল্যাট এবং নির্মাণাধীন ভবনে বিনিয়োগের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং বৈধতার বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, একজন সাব-রেজিস্ট্রারের সরকারি বেতন-ভাতা অনুযায়ী তার মোট বৈধ আয়ের সঙ্গে বর্তমান জীবনযাত্রা ও সম্পদের পরিমাণের অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

এছাড়া অতীতে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা কয়েকটি দলিল নম্বর উল্লেখ করে দাবি করেছেন, সেসব নিবন্ধনে রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হাসানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি করে। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা-ও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, আইন মন্ত্রণালয় ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হলে জনমনে আস্থা ফিরবে এবং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।