ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৩:১৮:২৩ AM

ঢামেকে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
04-08-2026 04:27:29 PM
ঢামেকে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের দাবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশিক্ষণ খাতের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগটি করেছেন রাহিমা আক্তার মুক্তা নামে এক নারী।

অভিযোগপত্রে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক মো. জালাল আহমেদ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লার্ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি অর্থবছরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ‘৩২৩১৩০১’ অর্থনৈতিক কোডের আওতায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকৃত প্রশিক্ষণ আয়োজন না করেই ওই বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, প্রশিক্ষণে ৫০ জন অংশগ্রহণকারীর তালিকা দেখানো হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি অনুপস্থিত ছিলেন। এরপরও তাদের নামে দৈনিক ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ভাতা গ্রহণের রেজিস্টার ও বিল-ভাউচারে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এতে প্রধান সহকারী, ক্যাশিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ডা. আশরাফুল আলম প্রশিক্ষণের সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকায় পুরো কার্যক্রম তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হাসপাতালের টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নিয়মবহির্ভূত বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ডা. আশরাফুল আলম ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। অভিযোগপত্রে লক্ষ্মীবাজারের রসের গলি এলাকায় একটি বাড়ি কেনার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

একই অভিযোগে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক মো. জালাল আহমেদ ও তার স্ত্রী শাহিন সুলতানার নামেও ঢাকার শান্তিনগর এলাকায় বহুতল ভবন ও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে, যা অবৈধ আয়ের অর্থে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। পাশাপাশি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার কে.ডি. হাট এলাকায়ও তার বেনামি সম্পদের তথ্য দুদকের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিযুক্তরা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, অতীতে ডা. আশরাফুল আলম আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিচয় ব্যবহার করলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেকে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক নেতা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, “দুঃখিত, এসব অযথা বানানো বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আপনি পরিচালক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলুন। ভালো থাকবেন।”

অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লার্ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।

অন্যদিকে অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক মো. জালাল আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে একই বিষয়ে দুদক একজন উপসহকারী পরিদর্শককে তদন্তের দায়িত্ব দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি প্রকাশ পায়নি। এই সুযোগে সংশ্লিষ্টরা আবারও লোকদেখানো প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

দেশের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।