ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০২:২৭:০৯ AM

দুর্যোগ কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
05-08-2026 07:42:34 PM
দুর্যোগ কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছরের চাকরি জীবনে তিনি ও তার পরিবারের নামে ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন এবং ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে মনিরুজ্জামান বলেছেন, তার সম্পদ সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলতে চান না।

জানা যায়, ২০১১ সালের ৭ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বোদাগঞ্জ উপজেলায় অ্যাডহক ভিত্তিতে পিআইও হিসেবে যোগ দেন মনিরুজ্জামান সরকার। ছয় মাস পর স্থায়ী নিয়োগ পেয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বদলি হন। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার শুরু হয়। পরবর্তীতে নবাবগঞ্জ, মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, বরাদ্দ অপব্যবহার এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঢাকার মিরপুরের রূপনগরে একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং, রংপুর নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় তিনতলা বাড়ি, কলেজ রোডে একটি আবাসিক ছাত্রাবাস, রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্লট ও জমি এবং নিজ এলাকায় দোতলা বাড়ি রয়েছে তার ও পরিবারের নামে। এছাড়া কুড়িগ্রামে একটি ফার্মেসি, ছয়টি মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত ব্যবহারের একটি দামি গাড়ি এবং তেলের পাম্প ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানকারীদের দাবি, এসব সম্পদের বাইরে আরও নামে-বেনামে সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও অন্যান্য বিশেষ প্রকল্পের বরাদ্দ বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও সামনে এসেছে। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, ঈদগাহ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, অফিস উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ এবং কম্পিউটার কেনার বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি। বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে বিতর্কের মুখে সেই অর্থ প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ করা হলেও কিছু প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের মাধ্যমেও বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজের ও স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক হিসাব পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধ অর্থ বৈধ দেখাতে ব্যাংক ঋণও নেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মনিরুজ্জামান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার সম্পদসহ সব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ উঠলে তা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্ত করা উচিত। তদন্তে যদি দেখা যায় সম্পদের সঙ্গে বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নেই, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সম্পদের উৎসের ব্যাখ্যা দিতে হবে। এতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।