ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০২:২৭:২৯ AM

দলকে আরো শক্তিশালী করতে তৎপরতা রিজভীর

মান্নান মারুফ
05-08-2026 08:13:39 PM
দলকে আরো শক্তিশালী করতে তৎপরতা রিজভীর

বাংলাদেশের রাজনীতিতে রুহুল কবির রিজভী পরিচিত একটি নাম। তিনি একজন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দফতর সম্পাদক এবং অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, রুহুল কবির রিজভীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর শান্ত, সংযত ও ধৈর্যশীল রাজনৈতিক আচরণ। ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করেন। দলীয় কার্যালয়ে প্রতিদিন অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের মতামত, অভিযোগ ও সাংগঠনিক বিষয় সম্পর্কে অবগত হন।

দলীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে পড়াশোনার প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে বলে সহকর্মীরা উল্লেখ করেন। অবসর পেলেই তিনি দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও লেখকদের বই পড়েন। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, রাষ্ট্রচিন্তা এবং নেতৃত্ববিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন বলেও দলীয় সূত্র জানায়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদারে রিজভী নিয়মিত কাজ করছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা, জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থা, সম্ভাব্য সমস্যা এবং তা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন। দলীয় নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম সমন্বয়ের বিষয়েও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে দলীয় প্রার্থীদের সহায়তা করতে পারেন, সাংগঠনিক শক্তিকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বয় কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়—এসব বিষয় নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন বলে দলীয় নেতারা দাবি করেন।

দলীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, রিজভী প্রতিদিন দীর্ঘ সময় সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যয় করেন। দলীয় সভা, সংবাদ সম্মেলন, সেমিনার, মতবিনিময় সভা এবং সাংগঠনিক বৈঠকে নিয়মিত অংশ নিয়ে তিনি দলের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, রুহুল কবির রিজভী দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ও মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়। এ কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তৃণমূলের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে অনেক নেতাকর্মীর অভিমত।

রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে অন্যতম সক্রিয় নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত।

তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্ব পালনে সহায়ক হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন।

বিএনপির সমর্থকদের মতে, রুহুল কবির রিজভীর নীরব কিন্তু ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড দলকে সুসংগঠিত রাখতে ভূমিকা রাখছে। তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সাংগঠনিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সমর্থকদের দৃষ্টিতে, তাঁর ধৈর্য, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।